জাতীয় প্রেস ক্লাবে ’ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অবহিতকরণ’ বিষয়ক সেমিনার

রওশন ঝুনু, ঢাকা : জাতীয় প্রেস ক্লাবে ’ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অবহিতকরণ’ বিষয়ক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

আজ ১০ নভেম্বর ২০২২ বৃহস্পতিবার সকালে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জাতীয় প্রেস ক্লাব এর যৌথ উদ্যোগে এই সেমিনারে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান এ আইন বিষয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন।

মূখ্য আলোচকের বক্তব্যে সফিকুজ্জামান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বিষয়ে জনগণকে আরো সচেতন করে তোলার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর অধীনে, বর্ণিত অভিযোগ দায়ের, ভোক্তা অধিকার বিরোধী কার্য ও অপরাধ এবং দণ্ডের বিধান রয়েছে। এতে, কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড (জরিমানা), ব্যবসায়ীর লাইসেন্স বাতিল, ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ (সীলগালা) করে দেওয়া এবং অবৈধ পণ্য অথবা উপাদান বাজেয়াপ্তকরণ ও নিষ্পত্তি (৫৫) ইত্যাদি।

মহাপরিচালক বলেন, ভোক্তা ও বিক্রেতাদের জ্ঞাতার্থে ’ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এ  মেয়াদোত্তীর্ণ, ভেজাল কিংবা অতিরিক্ত মূল্যসহ পণ্য বিষয়ে বিধি মোতাবেক অধিদপ্তরে অভিযোগ করলে, তা তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণিত ও জরিমানা আরোপ করা হলে আদায়কৃত জরিমানার ২৫ শতাংশ তাৎক্ষণিক অভিযোগকারীকে প্রদান করা হয়।

তিনি বলেন, ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে ধারণা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এবং ভোক্তা অধিকার আইনে শাস্তির বিধান, এই তিনটি প্রধান বিষয়ে আলোকপাত করে মহাপরিচালক বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর সংজ্ঞানুযায়ী, যিনি ভোগ করেন তিনিই ভোক্তা। মাতৃগর্ভের শিশু থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি মানুষই ভোক্তা।

সফিকুজ্জামান বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের উদ্দেশ্য হলো, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, ভোক্তা অধিকার বিরোধী কার্য প্রতিরোধ, নিরাপদ পণ্য বা সেবা পাওয়ার ব্যবস্থা, পণ্য বা সেবা ক্রয়ে প্রতারণা রোধ, ভোক্তার অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টি,ও ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনজনিত অভিযোগ নিষ্পত্তি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যাবলি: নিয়মিত বাজার তদারকি অভিযান পরিচালনা করা, দায়েরকৃত অভিযোগ তদন্তপূর্বক শুনানি ও নিষ্পত্তি, ভোক্তার স্বার্থবিরোধী কার্যক্রম ও অপরাধ প্রতিরোধ এবং গণসচেতনতা সৃষ্টি করা।

তিনি বলেন, ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণে তার প্রতিষ্ঠান দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ও ভোক্তা অধিকার বিরোধী কার্য প্রতিরোধের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ৬ এপ্রিল ২০০৯ তারিখে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ প্রণয়ন করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ভোক্তা অধিকারে সচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের বিকল্প নেই। সাংবাদিকবৃন্দ নিজের অধিকার বিষয়ে যতোটা সচেতন, তেমনি জনগণের অধিকার বিষয়েও ততোটাই সচেতন। জনগণকে সচেতন করতে সাংবাদিকরা সব সময় সময়োপযোগী প্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপন করেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভোক্তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার উপর গুরুত্বারোপ করে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, দেশবাসীর অধিকার সংরক্ষণে জাতীয় প্রেস ক্লাব সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।

অনুষ্ঠানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন বিষয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করা হয়। জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রশিক্ষণ ও পেশার মান উন্নয়ন উপ-কমিটির আহ্বায়ক ভানু রঞ্জন চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মাঈনুল আলম বক্তব্য রাখেন। এ সময় যুগ্ম সম্পাদক মো. আশরাফ আলী ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আফরোজা রহমান এবং সিনিয়র সাংবাদিকসহ শতাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

SuperWebTricks Loading...
Headlines