বগুড়া পলিটেকনিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার :

২ জুন, বৃহস্পতিবার, বিকালে বগুড়া পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযোগ তুলে ক্যাম্পাসে আন্দোলন করেছে শিক্ষার্থীরা।

বগুড়া পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের পাওয়ার ডিপার্টমেন্টের চীফ ইন্সট্রাক্টর হাফিজুর রহমানের রিরুদ্ধে ইলেকট্রনিক্স ডিপার্টমেন্টের ৭ম পর্বের এক ছাত্রীকে যৌনহয়রানীর অভিযোগে আন্দোলনে ক্যাম্পাস উত্তাল।

ইন্সটিটিউটের দুটি ছাত্র হোস্টেল এবং একটি ছাত্রী হোস্টেলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনে নামলে অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও সেই আন্দোলনে যোগদান করে অভিযুক্ত শিক্ষক হাফিজুরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে।

শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ খুবই তড়িঘড়ি করে অভিযুক্ত শিক্ষক হাফিজুর রহমানকে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে পটুয়াখালী পলিটেকনিকে বদলির ব্যবস্থা করলে শিক্ষার্থীরা শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাসে আবারো স্লোগান দিতে একত্রিত হয়। পরে কয়েক জন শিক্ষক এসে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিচারের আশ্বাস দিয়ে শান্ত করে, তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হোস্টেলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্যোতি নামের এক শিক্ষার্থী সমাবেশে দাবি করেন, এই শিক্ষক যেখানেই যাবেন সেখানেই ছাত্রীদের সর্বনাশ করবেন। আমরা এই শিক্ষকের বিচার চাই।

রাফি নামের এক শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষক হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে গত এক মাস আগে বগুড়া পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের “নারী ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি”র কাছে একাধিক অভিযোগ করা হয়েছিলো। কিন্তু তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। যার ফলে শিক্ষক হাফিজুর ঐ শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন কুপ্রস্তাব, যৌন হয়রানি এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করতেই থাকেন। গতকাল ভিক্টিম আবারো ক্লাসে যেয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার পর, সে কলেজ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলে, কলেজ প্রশাসন বিষয়টা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন।পরবর্তীতে ক্যাম্পাসের ফেসবুক গ্রুপে ভিকটিম পোস্ট দিয়ে সহযোগিতা চাইলে ছাত্ররা আন্দোলনে নামেন। হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালেও যৌন হয়রানীর লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিলো বলেও সাবেক শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।
এই ব্যাপারে বগুড়া পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সাথে কথা বলেতে চাইলে তিনি এই ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজী হননি। তিনি জানিয়েছেন তদ্বন্ত কমিটি করা হয়েছে সেই কমিটি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

উল্লেখ্য ইতোপূর্বে বগুড়া পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষর বিরুদ্ধেও ধর্ষণ ও শিশু হত্যার অভিযোগ উঠেছিলো সেই সময় তিনিও বদলি হয়ে অন্যত্র যান এবং গত কয়েক মাস পূর্বে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

SuperWebTricks Loading...
Headlines