আয়েশি ভাব ছেড়ে সবাই সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী

রওশন ঝুনু : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির আশংকা প্রকাশ করে, সবাইকে আবারও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আয়েশি ভাব ছেড়ে সবাই সতর্ক থাকুন।

বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর ২০২১) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন, গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভাণ্ডারে কম্বল গ্রহণ অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করছি যে, বিশ্বের সব দেশেই যখনই শীত আসে, তখই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যায়। এমনকি ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে আবার করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। শীত আসলে একটু ঠাণ্ডা লাগে, সর্দি-কাশি হয়। সর্দি-কাশির মাধ্যমেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যায়। তাই সবাইকে একটু সর্তক থাকতে হবে। অসর্তক হলে দেশে আবারও করোনা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে এখন করোনা নাই, তাই সবার মধ্যে একটু আয়েসী ভাব এসে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু অসতর্ক হলে আবারো আক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। এখন আমাদের অবশ্যই সর্তকতা অবলম্বন করা জরুরি। সর্তক থাকলে, আমাদেরকে আর আক্রান্ত করতে পারবে না, ইনশাল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রী সবাইকে মাস্ক পরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাস্কটা অবশ্যই পরে থাকতে হবে। মাস্ক পরে থাকলে, নিজে সংক্রমিত হবেন না। টিকা নেওয়া ব্যক্তিও করোনোয় আক্রান্ত হতে পারে এবং অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আক্রান্ত ব্যাক্তি  নিজে হয়তো বুঝবে না যে, সে অন্যকে সংক্রমিত করছে। তাই নিজের স্বার্থেই প্রত্যেককে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সবাইকে আমলকি, আমড়া, লেবু, কমলা, জাম্বুরা, টমেটো, শাক-সবজিসহ ভিটামিন সি যুক্ত বেশি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী বছর সবাইকে টিকার আওতায় আনা হবে। বর্তমানে যে টিকাদান কর্মসূচি চলছে তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আগামী বছরের মাঝামাঝি আমরা সব মানুষকে টিকা দিতে সক্ষম হবো।

আগামী বছরের মাঝামাঝি সবাইকে টিকা দেওয়ার সম্পন্ন হবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের একজন মানুষও যাতে বাদ না যায় সে ব্যবস্থাটা আমরা করেছি। নীতিমালা অনুযায়ী টিকা প্রত্যেকে টিকা পাবে। দুই-একদিনের মধ্যেই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের টিকা দেওয়া শুরু হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি চলছে। পাশাপাশি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও আমরা টিকা দিচ্ছি এবং দেবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী সবকিছুতেই স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছিলো। কিন্তু আমরা চেষ্টা করেছি, বাংলাদেশে যেনো সচল থাকে। সে দিক থেকে আমরা মনে করি, বাংলাদেশ যথেষ্ট সফল। আমরা করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি।

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভাণ্ডারে ৩৭টি ব্যাংক মোট ২৬ লাখ ৪৫ হাজার পিস কম্বল এবং ১০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পক্ষে তাঁর কার্যালয় প্রান্ত থেকে তার মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস এসব অনুদান গ্রহণ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রান্তে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারসহ বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ব্যাংক মালিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মানুষের দুঃসময়ে আমাদের ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশন সবসময় এগিয়ে আসে এবং স্বেচ্ছায় মানুষের কল্যাণে কাজ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

SuperWebTricks Loading...
Headlines